***সত্য ঘটনা অবলম্বনে উত্তর আলীনগরে প্রসিদ্ধ ইমাম ও মুসল্লী (মেরান আহমেদ)***
একদা উত্তর আলীনগরের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে একজন বয়ো-জ্যেষ্ঠ আলীমকে নিয়োগ দেওয়া হয় যার নাম মৌওলানা আব্দুল লতিফ ,গ্রামের নাম দাওয়াদারী, কানাইঘাট । তিনি উত্তর আলীনগর মহল্লার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন । নামায ও কোরআন তালীমের পিছনেই জীবনের সময় ব্যয় করেছিলেন তিনি । মামা শ্বশুর জনাব আকবর আলীর কাছ থেকে কর্ণগোচর বায়তুল মামুর জামে মসজিদটি জনাব মৌওলানা আব্দুল লতিফের হস্তে সুচনা ।
একদিন তিনি অনুভব করলেন, দিনদিন ধর্মনিষ্ঠের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । বিষয়টি তাঁকে পেরেশান করছিল । মুসল্লিদেরকে তিনি নিজের সন্তানের মত ভালোবাসতেন । যে ধর্মের সাহায্যে মানুষ তার চারপাশের জগৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত সেই পরাক্রমশালীর নাম নিতে অমনোনিবেশ সিদ্ধান্ত নিলেন নামাজ শেষে মুসল্লীদের বলবেন,আফসোস সেইদিন ছিলেন মুসল্লী একজন যার নাম সফাতউল্লাহ, যিনি রমজানের পিতা বলে বহুল পরিচিত ।
সফাত আলীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, লোকজন রং-তামাশা ও উন্মাদনায় ব্যস্ত । নাজীম, আত্মা কিংবা মিলু সাহেবের দোকানে টিভি দেখছে । ইমাম সাহেব বললেন,তা আবার কোন জিনিস? মুসল্লী জনাব সফাতউল্লাহ বললেন,কেহ বিশ্বকাপ খেলা দেখছে আবার কেহ নিত্য ধারাবাহিক ছবি । লোকজন দূরদর্শন অথ্যাৎ টিভির সামনে তৃষ্ণকাতর দৃষ্টিতে সেই খেলা কিংবা ছবি দেখে,তালি বাজায় এবং ভূয়সী প্রশংসা করে । বুযুর্গ ইমাম বললেন,নাউযুবিল্লাহ!আচ্ছা তারা খেলা দেখবে ভালো কথা,তাই বলে নামাজ ছেড়ে ।
বৃদ্ধ ইমাম অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ন হয়ে বলেন এ-তো মারাত্মক ঘৃণ্য পরিস্থিতি । আমাদের কর্তব্য এসব লোকদের হেকমতের সাথে নসীহত করা এবং সিরাতে মুস্তাকীমে তোলার জন্য চেষ্টা করা । ইমামের কথা শুনে মুসল্লী সফাতউল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি সেখানে গিয়ে লোকজনকে নসীহত করবেন ? বৃদ্ধ ইমাম হ্যাঁ করবো বলে উঠে দাঁড়ালেন । তারপর বললেন জনাব আপনি চলেন আমার সাথে , মুসল্লী তাঁর সিদ্ধান্তে দ্বি-মত পোষণ করলেন না , রওয়ানা হলেন তার সাথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে,দোকানের মালিকরা দুর থেকেই তাদের দেখে ফেললেন । তারা ভাবছে হয়তো ইমাম সাহেব কোন ওয়াজ-মাহফিলে যাবেন । কিন্তু না সোজা তাদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন । দোকানের মালিকরা সবাই ছিলো পরহেজগার । প্রত্যেকের ক্যাশ-বাক্সের পেছনে জায়নামাজ রয়েছে,তারা সময়মত নামাজ আদায় করে পুনরায় ব্যবসায় মনোযোগি হোন । সেখানে দর্শকরা ইমামকে দেখে হতভম্ব । ইমাম সাহেবকে দেখে দোকান মালিক একটি চেয়ার দিলে ইমাম উপবিষ্ট হোন । তিনি বিসমিল্লাহ পড়লেন । আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা বয়ান করলেন । দর্শকরা সব হাক্কাবাক্কা হয়ে গেল । একজন আরেক জনের দিকে দেখতে লাগলো তারা । কেউ কেউ হাসি-মজাক শুরু করে দিল আবার কেউ মনোযোগ সহকারে শুনছে । তিনি খোদারভীতির এমনসব আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন ,যেগুলো পাহাড়ে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে । এরপর তিনি মানবতার সর্বশেষ্ট কল্যাণকামী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু হাদীস উল্লেখ করলেন । ইমান ও আমলে সালে’র বরকত ও প্রতিদান তুলে ধরলেন । নেককারদের উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিলেন আল্লাহর না-ফরমান,শয়তান ও বদকারদের ভয়ানক পরিণতির কথা তুলে ধরলেন । আরও বললেন বন্ধুরা দিলের ভিতরে পরিবর্তন সৃষ্টি করো,তওবা করো,গুনাহ হতে পলায়ন করো ।মৌসুম যেমন বদলায় , ঠিক তেমনি বদলে যাও । আমাদের রব,মহানুভব,উদার ও অত্যান্ত দয়ালু । এই বলে ইমাম সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলেন মসজিদের দিকে,তাঁর পিছনে পিছনে বের হলো দোকানের সকল দর্শকরা । মাগরিবের নামাজ শেষে হুজুরের কাছে সবাই অনুতপ্ত হয় এবং সালাতে মনোযোগী হবে বলে প্রতিজ্ঞা করে । ইমাম সাহেব তাদের সংকল্পের অভিপ্রায় সন্তোষ হোন এবং ধর্ম প্রচারের দ্বায়িত্ব অর্পণ করেন মুসল্লী সফাত-উল্লাহর উপর,কিন্তু গ্রহণ করতে নারাজ তার একমাত্র কারণ তিনি কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। ইমাম সাহেব বললেন তুমি যেভাবে পারো তা-ই যথেষ্ট। কিছুদিন পর ইমাম সাহেব দ্বায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেলে,নামাজিদের অবস্থা সেই সাবেক, সালাতে অমনোযোগী। মুসল্লী সফাত উল্লাহ তাদের সালাতে মনোনিবেশের তাগিদ দিলে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করতে শুরু করে। গ্রামের দুইজন প্রসিদ্ধ মুরব্বিও তাদের সাথে যুক্ত হয়। তাদের বচন-ভঙ্গি ছিলো সীমারের তলোয়ারের চেয়েও ধারালো।
একজন বলে তুমি নিজের পরিবার ঠিক করতে পারো না এখানে এসে সম্ভাষণের গান প্রচার করছো।
আরেকজন ওরা হিন্দু না খ্রিস্টান যে তাদেরকে ধর্মের দাওয়াত দিতে হবে।
প্রথম জনের জবাবে সফাতউল্লাহ বলেন, আপনি হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানের অপরাধ সম্পর্কে কি অবগত নন? তাই বলে কি তিনি ধর্মপ্রচার ছেড়ে দিছেন?
দ্বিতীয় জনের জবাবে যারা নামাজে অমনোযোগী তাদেরকে তাগাদ দেওয়া কি অপরাধ। নবী করীম(সাঃ) বলেছেন নামাজের তাগিদ দিতে।
শুনেছি ইমাম ও মুসল্লী সফাতউল্লাহ আর জীবিত নেই। আল্লাহ যেনো তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নছিব করেন।
কিছুদিন আগে আমি ছুটিতে যাই,মসজিদ ভর্তি মুসল্লী দেখে হৃদয় আনন্দে আন্দোলিত হয়েছে। তখন ইমাম ও বৃদ্ধ মুসল্লীর কথা মনে পড়লো তাই আমার এই ক্ষুদ্র লিখন তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম। সম্মানিত পাঠক,শিক্ষার দিক দিয়ে ক্ষুদ্রভাবে আছি, ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
লেখকঃ- মেরান আহমেদ (সৌদি আরব প্রবাসী)
পিতাঃ- আরমান আলী
মাতাঃ- সুফিয়া বেগম
গ্রামঃ- আলীনগর
থানাঃ- বিয়ানীবাজার
জেলাঃ- সিলেট
বাংলাদেশ
একদা উত্তর আলীনগরের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে একজন বয়ো-জ্যেষ্ঠ আলীমকে নিয়োগ দেওয়া হয় যার নাম মৌওলানা আব্দুল লতিফ ,গ্রামের নাম দাওয়াদারী, কানাইঘাট । তিনি উত্তর আলীনগর মহল্লার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন । নামায ও কোরআন তালীমের পিছনেই জীবনের সময় ব্যয় করেছিলেন তিনি । মামা শ্বশুর জনাব আকবর আলীর কাছ থেকে কর্ণগোচর বায়তুল মামুর জামে মসজিদটি জনাব মৌওলানা আব্দুল লতিফের হস্তে সুচনা ।
একদিন তিনি অনুভব করলেন, দিনদিন ধর্মনিষ্ঠের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । বিষয়টি তাঁকে পেরেশান করছিল । মুসল্লিদেরকে তিনি নিজের সন্তানের মত ভালোবাসতেন । যে ধর্মের সাহায্যে মানুষ তার চারপাশের জগৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত সেই পরাক্রমশালীর নাম নিতে অমনোনিবেশ সিদ্ধান্ত নিলেন নামাজ শেষে মুসল্লীদের বলবেন,আফসোস সেইদিন ছিলেন মুসল্লী একজন যার নাম সফাতউল্লাহ, যিনি রমজানের পিতা বলে বহুল পরিচিত ।
সফাত আলীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, লোকজন রং-তামাশা ও উন্মাদনায় ব্যস্ত । নাজীম, আত্মা কিংবা মিলু সাহেবের দোকানে টিভি দেখছে । ইমাম সাহেব বললেন,তা আবার কোন জিনিস? মুসল্লী জনাব সফাতউল্লাহ বললেন,কেহ বিশ্বকাপ খেলা দেখছে আবার কেহ নিত্য ধারাবাহিক ছবি । লোকজন দূরদর্শন অথ্যাৎ টিভির সামনে তৃষ্ণকাতর দৃষ্টিতে সেই খেলা কিংবা ছবি দেখে,তালি বাজায় এবং ভূয়সী প্রশংসা করে । বুযুর্গ ইমাম বললেন,নাউযুবিল্লাহ!আচ্ছা তারা খেলা দেখবে ভালো কথা,তাই বলে নামাজ ছেড়ে ।
বৃদ্ধ ইমাম অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ন হয়ে বলেন এ-তো মারাত্মক ঘৃণ্য পরিস্থিতি । আমাদের কর্তব্য এসব লোকদের হেকমতের সাথে নসীহত করা এবং সিরাতে মুস্তাকীমে তোলার জন্য চেষ্টা করা । ইমামের কথা শুনে মুসল্লী সফাতউল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি সেখানে গিয়ে লোকজনকে নসীহত করবেন ? বৃদ্ধ ইমাম হ্যাঁ করবো বলে উঠে দাঁড়ালেন । তারপর বললেন জনাব আপনি চলেন আমার সাথে , মুসল্লী তাঁর সিদ্ধান্তে দ্বি-মত পোষণ করলেন না , রওয়ানা হলেন তার সাথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে,দোকানের মালিকরা দুর থেকেই তাদের দেখে ফেললেন । তারা ভাবছে হয়তো ইমাম সাহেব কোন ওয়াজ-মাহফিলে যাবেন । কিন্তু না সোজা তাদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন । দোকানের মালিকরা সবাই ছিলো পরহেজগার । প্রত্যেকের ক্যাশ-বাক্সের পেছনে জায়নামাজ রয়েছে,তারা সময়মত নামাজ আদায় করে পুনরায় ব্যবসায় মনোযোগি হোন । সেখানে দর্শকরা ইমামকে দেখে হতভম্ব । ইমাম সাহেবকে দেখে দোকান মালিক একটি চেয়ার দিলে ইমাম উপবিষ্ট হোন । তিনি বিসমিল্লাহ পড়লেন । আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা বয়ান করলেন । দর্শকরা সব হাক্কাবাক্কা হয়ে গেল । একজন আরেক জনের দিকে দেখতে লাগলো তারা । কেউ কেউ হাসি-মজাক শুরু করে দিল আবার কেউ মনোযোগ সহকারে শুনছে । তিনি খোদারভীতির এমনসব আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন ,যেগুলো পাহাড়ে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে । এরপর তিনি মানবতার সর্বশেষ্ট কল্যাণকামী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু হাদীস উল্লেখ করলেন । ইমান ও আমলে সালে’র বরকত ও প্রতিদান তুলে ধরলেন । নেককারদের উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিলেন আল্লাহর না-ফরমান,শয়তান ও বদকারদের ভয়ানক পরিণতির কথা তুলে ধরলেন । আরও বললেন বন্ধুরা দিলের ভিতরে পরিবর্তন সৃষ্টি করো,তওবা করো,গুনাহ হতে পলায়ন করো ।মৌসুম যেমন বদলায় , ঠিক তেমনি বদলে যাও । আমাদের রব,মহানুভব,উদার ও অত্যান্ত দয়ালু । এই বলে ইমাম সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলেন মসজিদের দিকে,তাঁর পিছনে পিছনে বের হলো দোকানের সকল দর্শকরা । মাগরিবের নামাজ শেষে হুজুরের কাছে সবাই অনুতপ্ত হয় এবং সালাতে মনোযোগী হবে বলে প্রতিজ্ঞা করে । ইমাম সাহেব তাদের সংকল্পের অভিপ্রায় সন্তোষ হোন এবং ধর্ম প্রচারের দ্বায়িত্ব অর্পণ করেন মুসল্লী সফাত-উল্লাহর উপর,কিন্তু গ্রহণ করতে নারাজ তার একমাত্র কারণ তিনি কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। ইমাম সাহেব বললেন তুমি যেভাবে পারো তা-ই যথেষ্ট। কিছুদিন পর ইমাম সাহেব দ্বায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেলে,নামাজিদের অবস্থা সেই সাবেক, সালাতে অমনোযোগী। মুসল্লী সফাত উল্লাহ তাদের সালাতে মনোনিবেশের তাগিদ দিলে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করতে শুরু করে। গ্রামের দুইজন প্রসিদ্ধ মুরব্বিও তাদের সাথে যুক্ত হয়। তাদের বচন-ভঙ্গি ছিলো সীমারের তলোয়ারের চেয়েও ধারালো।
একজন বলে তুমি নিজের পরিবার ঠিক করতে পারো না এখানে এসে সম্ভাষণের গান প্রচার করছো।
আরেকজন ওরা হিন্দু না খ্রিস্টান যে তাদেরকে ধর্মের দাওয়াত দিতে হবে।
প্রথম জনের জবাবে সফাতউল্লাহ বলেন, আপনি হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানের অপরাধ সম্পর্কে কি অবগত নন? তাই বলে কি তিনি ধর্মপ্রচার ছেড়ে দিছেন?
দ্বিতীয় জনের জবাবে যারা নামাজে অমনোযোগী তাদেরকে তাগাদ দেওয়া কি অপরাধ। নবী করীম(সাঃ) বলেছেন নামাজের তাগিদ দিতে।
শুনেছি ইমাম ও মুসল্লী সফাতউল্লাহ আর জীবিত নেই। আল্লাহ যেনো তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নছিব করেন।
কিছুদিন আগে আমি ছুটিতে যাই,মসজিদ ভর্তি মুসল্লী দেখে হৃদয় আনন্দে আন্দোলিত হয়েছে। তখন ইমাম ও বৃদ্ধ মুসল্লীর কথা মনে পড়লো তাই আমার এই ক্ষুদ্র লিখন তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম। সম্মানিত পাঠক,শিক্ষার দিক দিয়ে ক্ষুদ্রভাবে আছি, ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
লেখকঃ- মেরান আহমেদ (সৌদি আরব প্রবাসী)
পিতাঃ- আরমান আলী
মাতাঃ- সুফিয়া বেগম
গ্রামঃ- আলীনগর
থানাঃ- বিয়ানীবাজার
জেলাঃ- সিলেট
বাংলাদেশ


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন