কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মোছাদ্দিক আহমদ নোমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় দলীয় প্রভাবে ইউনিয়ন পরিষদকে রীতিমত অনিয়মে পরিণত করেছেন। ৬৪ বছর ধরে কুলাউড়া পৌর শহরে কার্যক্রম চলা ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনটি জেলা পরিষদ থেকে নিজের স্বার্থের জন্য লিজ নেন। বর্তমানে ওই ভবনের সামনে ৩টি ফলের দোকান ভাড়া দিয়েছেন তিনি। চেয়ারম্যান নোমান নিজের স্বার্থের জন্য ওই কার্যালয়টি লিজ নিয়ে দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় সরকার কিংবা প্রশাসনের কোন অনুমতি এবং ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যদের সাথে কোন ধরণের সভা কিংবা পরামর্শ ছাড়াই নিজের ক্ষমতাবলে জনতাবাজারে অবস্থিত পরিষদের নতুন ভবনে কার্যক্রম স্থানান্তর করেছেন। এটা নিয়ে সমগ্র ইউনিয়ন জুড়ে তোলপাড় চলছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬০ সালে কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে পৌর শহরে থানার সম্মুখে ডিসি খতিয়ানের চার শতক ভূমিতে ইউনিয়নের পরিষদের কার্যক্রম চলে আসছিল। দীর্ঘ ৬৪ বছরে অনেকেই এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কিন্তু কেউই পরিষদের ভবনটি লিজ নেওয়ার কথা চিন্তাও করেননি। কিন্তু বছর দেড়েক আগে পরিষদের প্রাচীনতম কার্যালয়টি চেয়ারম্যান নোমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ থেকে নিজের স্বার্থের জন্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুর রহমানের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি ওই কার্যালয়টি লিজ নেন।
শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪
কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ: নলকূপ ও ভাতা দেয়ার কথা বলে টাকা আদায়
বিয়ে করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হাসনাতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরেক সমন্বয়ক ও হাসনাতের বন্ধু সারজিস আলম।
মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪
দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে, ফরেস্ট গার্ড নিহত
দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে, ফরেস্ট গার্ড নিহত
শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
মা নিয়ে কিছু কথা :
১. দুনিয়ায় কেউই আপনাকে স্বার্থ ছাড়া ভালোবাসবে না। শুধু একজন মানুষ বাদে, আর সে হলো আপনার মা।
২. মাকে তুমি কষ্ট দিয়ে করো না ভুল, মা হারালে হারাবে তুমি আল্লাহ্ রাসুল । তুমি যত পারো মা এর যত্ন সেবা কর, মা তখন হবে আপন, যখন সবাই হবে পর ।
৩. প্রথম স্পর্শ মা, প্রথম পাওয়া মা, প্রথম শব্দ মা, প্রথম দেখা মা, আমার জান্নাত তুমি মা ।
৪. যার ললাটের ওই সিদুর দিয়ে ভোরের রবি উঠে, আলতা রাঙা পায়ের ছোয়ায় রক্ত কমল ফোটে । সেই আমার মা, যার হয়না তুলনা ।
৫. মা আমাদের প্রথম বন্ধু এবং অবশ্যই শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আমাদের গোপন কথাগুলো আমার প্রথমে মায়ের কাছেই বলতে শিখি। বিপদে যে বন্ধু আমাদের বুক দিয়ে আড়াল করে রাখে, সেও আমাদের মা।
৬. যখন আপনি আপনার মায়ের দিকে তাকাবেন, তখন৷ জানবেন আপনি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ তীর্থস্হানের দিকে তাকিয়ে আছেন।
৭. মা হলো বাড়ির হৃদয়ের মতো। আর বাড়িতে সে নেই মানে সেখানো কোনো হৃদস্পন্দন নেই।
৮. মায়েরা হলো আঠার মতো। যখন আপনি তাদেরকে দেখতে পান না, এমনকি তখনও তারা পরিবারকে একত্রিত করে রাখে।
৯. একজন শিশুর জীবনে তার মায়ের অবদানকে আপনি কখনোই কেনো অংক দিয়ে মেলাতে পারবেন না।
১০. মাতৃত্বের চেয়ে বড় ভূমিকা পৃথিবীতে আর কিছু হয় না।
১১. যৌবন ফুরিয়ে যায়, ভালোবাসা ফুরিয়ে যায়, বন্ধুত্বও শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মায়ের গোপন আশা এই সবকিছুকে বাঁচিয়ে রাখে।
১২. আমার মাকে বর্ণনা করার জন্য ঘূর্ণিঝড় হ্যারিকেনকে তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লিখতে হবে।
১৩.মাতৃত্ব হলো অন্যের সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হওয়ার এক দুর্দান্ত সুবিধা।
১৪. মা সেই তখন থেকেই আমার রোল মডেল, যখন আমি “রোল মডেল” শব্দটা অবধি জানতাম না।
১৫.মাতৃত্বে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়া খেলা। এটি জীবনীশক্তি দিয়ে মহিমান্বিত। এটি একই সাথে বিশাল এবং ভীতিকর। এটি অসীম আশাবাদের একটি বিষয়।
১৬. মাতৃত্ব – যেখানে সকল ভালোবাসার শুরু এবং শেষ হয়।
১৭. একজন মা শক্তি এবং মর্যাদায় পরিহিত, ভবিষ্যতের ভয় ছাড়াই হাসে। যখন সে কথা বলে তার কথাগুলো প্রাজ্ঞ এবং সে দয়া সহ নির্দেশনা দেয়।
১৮. মা – মানবজাতির মুখের ভাষাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ।
১৯. মায়ের হাত কোমলতায় তৈরি এবং শিশুরা তাদের মধ্যে শান্তভাবে ঘুমায়।
২০. মা হলেন এমন একজন মানুষ যে অন্য সকলের জায়গা নিতে পারে, কিন্তু তার জায়গা কেউ নিতে পারে না।
২১. একজন মায়ের সুখ একটি বাতিঘরের মতো, ভবিষ্যতকে আলোকিত করে কিন্তু অতীতের প্রতি অনুরক্ত স্মৃতির ছদ্মবেশে।
২৩. মায়েরা তাদের সন্তানদের হাত অল্প সময়ের জন্য ধরে রাখে, কিন্তু তাদের হৃদয় ধরে রাখে চিরকালের জন্য।
২৪. ঈশ্বর সর্বত্র থাকতে পারেন না, আর এ কারণেই তিনি ” মা ” দের সৃষ্টি করেছিলেন।
২৫. যখন আপনি একজন মা, তখন আপনি কখনোই একার জন্য চিন্তা করতে পারবেন না। আপনার নিজের চিন্তার সাথে আপনার সন্তানের চিন্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলে আসবে।
২৬. আমার মায়ের ভালোবাসা সবসময়ই আমাদের পরিবারের জন্য একটি টেকসই শক্তি হয়ে থাকে, এবং আমার সবচেয়ে বড় আনন্দের মধ্যে একটি হল তার সততা, তার সহানুভূতি, তার বুদ্ধিমত্তা আমার মেয়েদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। ( — মিচেল ওবামা)
২৭. আমি বিশ্বাস করি মা হবার পছন্দটি হল সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক শিক্ষকদের একজন হওয়ার পছন্দ।
২৮. মায়ের কোল হলো কান্নার করার জন্য পৃথিবীর সেরা স্হান।
২৯. যখন তুমি তোমার মায়ের চোখে দিকে তাকাবে, তখন তুমি দুনিয়ার সেরা ভালোবাসাটা দেখতে পাবে।
প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আমাদের কালেশান গুলো আপনাদের কাছে খুভ ভালো লেগেছে । ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না । ধন্যবাদ ।
শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
বেকারের চিঠি
মণিভূষণ ভট্টাচার্য
আমার বয়স যে বছর একুশ পূর্ণ হলো —
ভোট দিলাম।
দ্বিতীয়বার যখন চটের পর্দা-ঢাকা খোপরিতে ঢুকে
প্রগতিশীল প্রতীক চিহ্নে ছাপ মারছি তখন আমি ছাব্বিশ।
ঊনত্রিশ বছর বয়সেও বিশ্বের নিঃস্বতম গণতন্ত্র রক্ষার জন্য
আমার প্রাণ আকুল হয়ে উঠেছিলো।
কিন্তু এ বছর ভোটের দিন সারাদুপুর তক্তপোষে শুয়ে
বেড়ার ফোকর দিয়ে পতাকা-ওড়ানো রিকসার যাতায়াত দেখেছি
কিন্তু ভোট দিতে যাই নি।
না, আমি ভোট বয়কট করিনি
ভোট আমাকে বয়কট করেছে।
কারণ আমার বয়স একত্রিশ।
তিরিশের পর সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না।
যে সরকার আমাকে চাকরি দেবে না —
সেই সরকার গঠনের জন্য
গায়ে আমার পুলক লাগে চোখে ঘনায় ঘোর —
এরকম আশা করা যায় না।
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্য বয়স পাঁচ বছর শিথিলযোগ্য,
কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিশেষ কারণ
বিশেষভাবেই অনুপস্থিত।
অগত্যা সরকারি চাকরি পাবার একটাই উপায় আছে
সার্টিফিকেট জাল করে বয়স কমিয়ে ফেলা।
কিন্তু হে নন্দিত নেতৃবৃন্দ, যদিও আমার চোখের উপর
আপনাদের অনির্বচনীয় লীলাময় জীবন খোলা আছে
তবু জালিয়াৎ হতে পারবো না —
আমার বাবা সৎ ছিলেন।
এই গঞ্জের বাজারে, ন্যাড়া ছাতিমতলায়, কাঁচাপাকা চুলে,
পুরু কাচের চশমা চোখে যে বৃদ্ধটি কুঁজো হয়ে
মান্ধাতার আমলের টাইপরাইটারে
আমার এবং আমার মতো শত শত চাকরিপ্রার্থী এবং
ভোটদাতা অর্থাৎ আপনাদের পরমান্নদাতা যুবকের
হাজার হাজার দরখাস্ত টাইপ ক’রে দিতেন —
একদিন ভরদুপুরে তার বুকের বাঁদিকের লজঝড়ে টাইপমেশিনটা
বিগড়ে গেল।
সেই ফাঁকা জায়গায় আমি কলা নিয়ে বসে পড়লাম।
কার্বাইডে পাকানো চালানী মর্তমান কলার রঙ
যদিও বোম্বাই-অভিনেত্রীর চটককেও হার মানায়,
তবু খেতে অতিশয় অখাদ্য, ফলে আমাকে ডাবের সঙ্গে
ভাব জমাতে হোলো।
পা ফাক করে দাঁড়িয়ে ধুতি-পাঞ্জাবী শার্ট-প্যান্ট যখন
সরু নল দিয়ে চোঁ চোঁ করে সুমিষ্ট জল টেনে নিতো,
তাদের দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে আমি এই গঞ্জের
ছিন্নবিচ্ছিন্ন মানুষের মর্মান্তিক মহিমাকে স্পর্শ করতাম।
ডাবের খোলাটি ছুঁড়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গে, ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে
দেখতাম, অধিকাংশ অমেরুদণ্ডী বুদ্ধিজীবীদের মতোই,
ভিতরে শাঁস আছে কিনা।
তারপর চিরুনী ব্লাউজ ধূপকাঠি তরমুজ চাল
হোসিয়ারী মাল এবং ধূর্ত নেতা পূর্তমন্ত্রী হবার জন্য
যত বড় স্বপ্ন দেখে ঠিক সেই আয়তনের মিষ্টি কুমড়ো
অর্থাৎ একের পর এক বহুমুখী বাণিজ্য বিস্তারে আমি
বিড়লাকেও ছাড়িয়ে গেলাম, কিন্তু বেড়ালের ভাগ্যে
শিকে ছিড়লো না। ফলে প্রায় বিনা চিকিৎসায়
মা মারা গেলেন।
আমাদের এখানে গত কুড়ি বছরে আধখানা হাসপাতাল
হয়েছে, বাকি আধখানা আর হবে না, কারণ প্রধান রাজনৈতিক
দলের নেতারা অধিকাংশই ডাক্তার এবং তাদের
নার্সিং হোম আছে।
রোজ ভোর চারটেয় উঠে আমি যখন বস্তির
গণতান্ত্রিক খাটা পায়খানায় লাইন দিতাম,
মা নিজের – হাতে - দেওয়া ঘুঁটে জ্বালিয়ে চা করে দিতেন।
সেই স্যাঁতসেতে অন্ধকারে ধোঁয়াটে আগুনের সামনে
বসে-থাকা মা- কে আমার ভারতবর্ষ বলে মনে হোতো।
দিদির মৃতদেহ দড়ি কেটে নামাবার পর থেকে
মা একদম চুপ হয়ে গিয়েছিলেন।
যার সঙ্গে দিদির বিয়ে হয়েছিলো সে গরীব ছিলো এবং
ভালো ছিলো। কিন্তু দারিদ্র্য তাকে মহানও করেনি বা
খ্রীষ্ট্রের সম্মানও দেয় নি — এক চোরাকারবারি
শ্রমিকনেতার আড়কাঠিতে পরিণত করেছিলো। সে সেই
নেতাকে মহিলা সরবরাহ করতো —
সেই নেতার সঙ্গে মন্ত্রীর যোগাযোগ ছিলো,
মন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রের যোগ ছিলো,
কেন্দ্রের সঙ্গে পরিধির যোগ ছিলো,
পরিধির সঙ্গে ব্যাস এবং ব্যাসের সঙ্গে
ব্যাসার্ধের সংযোগ ছিলো এবং এইসব সূক্ষ্ম যোগাযোগগুলি
একসঙ্গে গিঁট লেগে একটা মোটা নাইলনের দড়ি হয়ে
দিদির গলায় ফাঁস লাগিয়েছিলো।
চাকরি আমার হতো।
জেলার সব ছাত্রদের মধ্যে আমি যদি মাতৃভাষায়
প্রথম না হয়ে আপনাদের পিতৃভাষা অর্থাৎ
ইংরেজিতে প্রথম হতাম, হয়তো আমার বরাত
খুলে যেতো। অথবা আমার বন্ধুরা —
যারা ঠিক ঠিক জায়গায় তেল সরবরাহে
আরব রাষ্ট্রগুলিকেও হার মানিয়েছে —
আমি যদি তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়
নামতে পারতাম তাহলে আমার গলায়
বাদামের ঝুড়ির বদলে নেকটাই ঝুলতো।
গর্তে-ঢুকে-যাওয়া ফ্যাকাসে হলুদ রঙের দুটো চোখের
শূন্য দৃষ্টি এবং একটা অকেজো টাইপ মেশিন ছাড়া
বাবা আমার জন্য আর কিছু রেখে যেতে পারেন নি।
এ বছর জীবনের সর্বশেষ ভোটটি দিয়ে মা চলে গেলেন। ভারতবর্ষ পড়ে রইলো।
আমার আর কোনো দায় নেই।
যেহেতু আজকের দর্শন আগামীকালের সংস্কার মাত্র
এখন যদি আমি সন্ন্যাসী হয়ে যাই।
বন্ধুরা বলবে, ‘পালিয়ে গেল’।
বিদেশি টাকায় পুষ্ট যে সব তথাকথিত
জনসেবা প্রতিষ্ঠান আছে — তাতে যদি
ভাতের জন্য ঢুকে পড়ি —
তারা বলবে, ‘ব্যাটা গুপ্তচর’।
যদি আত্মহত্যা করি —
তাহলে, ‘কাপুরুষ’।
আর যদি সোজাসুজি প্রতিবাদ করি —
তাহলে আপনারা, রাজনৈতিক নৈশ প্রহরীরা
কালো টাকার কুমিরদের অন্ধকার পাড়ায় গিয়ে
মাঝরাতে ‘নকশাল’ ‘নকশাল’ ব’লে
ঘেউ ঘেউ করে তাদের জাগিয়ে দেবেন
এমন কি অবস্থা তেমন তেমন বেগতিক দেখলে
আপনাদের সঙ্গে রাশিয়া আমেরিকাও যোগ দেবে।
এতদিন চাকরি খুঁজেছি। পাই নি।
এবার ভাবছি আমরাই আপনাদের চাকরি দেবো।
আমরা যারা বেকার আধাবেকার ভবঘুরে
বাউন্ডুলে ভিখিরি —
যাদের জমি নেই কিন্তু জমিতে খাটে —
বাড়ি বানায় কিন্তু বাড়ি নেই —
যারা শহরে আলো জ্বালে কিন্তু যাদের কুপিতে তেল নেই —
যারা কারখানা বানায়, কিন্তু কারখানা যাদের
আস্তাকুঁড়ে চালান করে দেয়
যারা কোনোদিন একটা ভালো জামা পরেনি,
সরবত খায় নি,
বেড়াতে গিয়ে পর্বতমালার স্তব্ধ নিরাসক্তি ও মহত্ত্বকে
স্পর্শ করেনি,
যারা জন্মায় আর খাটে, খাটে আর মরে,
যারা পিপড়ের মতো পোকামাকড়ের মতো
শীত-রাত্রির ঝরাপাতার মতো —
সেইসব নিরক্ষর নগণ্য কুঁজো অবজ্ঞাত করুণ
যাদের দেখার জন্য এবং ঠকাবার জন্য আপনারা
বিরাট মঞ্চে উঠে দাঁড়ান —
যারা আগামীদিনের ভারতবর্ষের, গোটা পৃথিবীর এবং
সৌরজগতের মালিক — আমি তাদেরই একজন হয়ে
এই জংশনে স্টেশনে বাদাম বেচে যাচ্ছি।
কশাইয়ের বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলের মতো জীবন আমাদের —
যে-কোনো মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারি — আবার
এই আঙুলের কেন্দ্রীভূত চাপে খোলা ফাটিয়ে বের করে আনা যায়
রাজনৈতিক ক্ষমতার পুষ্টিকর তৈলবীজ, আর সমস্ত শুকনো খোসা
বাতাসে উড়ে যায়, বাতাসের সঙ্গে আকাশ স্পর্শ করে
মানুষের অনন্ত ঘৃণার আগুন —
সেই আগুনের পাশে বসে আছেন আমার মা,
আমার দেশজননী।
না, ‘বিপ্লব’ শব্দটি শুনলেই আপনাদের মতো
আমার কম্প দিয়ে জ্বর আসে না।
বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১
ইয়াকুব নবী বাস করিতেন কিনানে.
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২০
শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং।
সবাইকে স্বাগতম আমার হ্যাক স্কুল বিডির প্রথম পোস্টে।
আজকে আমরা আলোচনা করবো ফেইসবুক হ্যাকিং নিয়ে।
যায় হোক ফেইসবুক সম্পর্কে তেমন বেশি বলার কিছুই নেই :)
কারণ আমার এই পোস্টের লিঙ্কটাও হয়তো আপনি ফেইসবুকের মাধ্যমেই পেয়ে থাকবেন পাবলিশ হওয়ার পর।
জোকার ভাই এমন জিনিস বানাইলো যে জীবনটাই জোক হয়ে গেছে :p খায়তে ফেইসবুক বসতে ফেইসবুক, এমন কি প্রাকৃতিক কাজ কর্ম করা অবস্থায় ও মানুষ
ফেইসবুকেই থাকে।
যায় হোক মজা করছিলাম ২০০৪ সালে প্রতিষ্টিত হওয়া ফেইসবুক ওয়েবসাইটের ইউজারের সংখ্যা বর্তমানে বিলিয়নের উপরে ।
যায় হোক আমরা আজকের পোস্টে আলোচনা করবো কিভাবে ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং করা যায়।
হাজার হাজার পদ্ধতি আছে ফেইসবুক আইডি হ্যাক করার । হয়তো আপনি বলবেন লেখক পাগলি নি কুনু :p হাজার হাজার পদ্ধতি থাকলে আমরা এতদিন ধরে খুজি হ্যাকিং
করার সিস্টেম কিন্তু পায় না কেনো :/
না ভাই আসলে হ্যাকিং ব্যাপার টা হচ্ছেই আবিষ্কারের প্রত্যেক পুরানো একটি কিছু নিয়ে ঘাটতে ঘাটতে আপনি নিশ্চয় সেই জিনিসটা সম্পর্কে নতুন কিছু বের করতে পারবেন।
তেমনি ভাবে ফেইসবুক হ্যাকিং এর ১০০০ পদ্ধতির ব্যাপার টাও এরকম। আপনি যতো ফেইসবুক নিয়ে ঘাটবেন। (এখানে ঘাটাঘাটি মানে চ্যাটিং ফোটো আপলোডিং এর কথা বলা হচ্ছে নাহ)
যায় হোক প্রথমেই হ্যাকিং করার জন্যে আপনার ভালো মতন জানা দরকার ফেইসবুক কাজ করে কিভাবে।
ফেইবুকের সম্পর্কে আপনি যদি ভালো মতন জানেন,তাহলে ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং এর ব্যাপার টা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্যে।
যায় হোক এই বিষয়ে হয়তো বিস্তারিত পরে কোনোদিন আলোচনা করবো। তবে আজকে আলোচনা বিষয় হচ্ছে পাসওয়ার্ড রেসেট পদ্ধতি ব্যাবহার করে কিভাবে ফেইসবুক আইডি হ্যাকিং কিভাবে করা যায়।
ফেইসবুক হ্যাকিং এর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে পাসওয়ার্ড রেসেট করার মাধ্যমে ভিকটিমের ফেইসবুক আইডি হ্যাক করা।
এই পদ্ধতি টি ব্যাবহার করে আইডি হ্যাকিং করা সহজ হয় যখন আপনি যার আইডি হ্যাক করতে চাচ্ছেন সে যদি আপনার ফেইসবুক ফ্রেন্ড হয়।
এর জন্যে আপনার দরকার হবে আপনি যার ফেইসবুক আইডি হ্যাক করতে চান তার মেইল আইডি।
যদি আপনি ভিকটিমের মেইল আইডি না যেনে থাকেন সে ক্ষেত্রে আপনি তার প্রোফাইলের কনটাক্ট ইনফো তে দেখতে পারেন।
এখন ফেইসবুকে ঢুকে ক্লিক করুন ফরগেট পাসওয়ার্ড অপশনে।
তারপর আপনার ভিকটিমের মেইল আইডি দিন।
তারপর আপনি ভিকটিমের ফেইসবুক আইডি দেখতে পাবেন।
তারপর This is my account লেখাটি তে ক্লিক করুন।
এখন আপনি দেখতে পাবেন যে
"would like to reset the password via the victim's emails."এই লেখাটি। কিন্তু ভিকটিমের মেইল আইডি তে তো আপনার এক্সেস নেই সুতারাং
"No longer have access to these?"লেখাটি তে ক্লিক করুন ।
এখন আপনাকে প্রশ্ন করবে
"How can we reach you?"আপনি এমন একটি মেইল আইডি দিন যেটা এখনো ফেইসবুকে ব্যাবহার করা হয়নি।
আবার ফেইসবুক আপনাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে।
আপনি যদি ভিক্টিমের ফ্রেন্ড হয়ে থাকেন তাহলে তো কথায় নেই,কারণ ভিক্টিমের ফেইসবুক প্রোফাইল রিলিটেড অনেক প্রশ্নের উত্তর আপনার যানা থাকবে/
যেমনঃ বার্থ ডেট,কোথায় থাকেন,সিক্রেট প্রশ্নের উত্তর ইত্যাদি।
যদি আপনার যানা না থাকে তাহলে চিন্তা ভাবনা করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন।
আপনি যদি প্রশ্ন গুলোর উত্তর ঠিকভাবে দিতে পারেন তাহলে আপনি ভিক্টিমের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করতে পারবেন,তবে তার জন্যে ২৪ ঘন্টা সময় লাগবে।
যদি আপনি ফেইবুক যে প্রশ্ন গুলো করেছে সেগুলোর সঠিক উত্তর না জানেন তাহলে এই পদ্ধতি টি ব্যাবহার করতে পারেন।
"Recover your account with help from friends"এই অপশন টি তে ক্লিক করুন।
এটার মাধ্যমে আপনি তিন জন বা পাচজন ফ্রেন্ড সিলেক্ট করতে পারেন ।
সিলেক্ট করা ফ্রেন্ড দের কাছে ফেইসবুক একটি সিকুউরিটি কোড পাঠাবে এই সিকুউরিটি কোডটির মাধ্যমে আপনি পাসওয়ার্ড টি রিসেট করতে পারেন।
এই ক্ষেত্রে আপনি একটি কাজ করতে পারেন আপনি ৩ টি বা ৫ টি ফেইক আইডি খুলুন এবং সেগুলো দিয়ে আপনার ভিক্টিম কে এড রিকুএস্ট পাঠান।
এবং রিকুএস্ট একসেপ্ট করলে এই পদ্ধতি টি ব্যাবহার করে আপনি সিকুউরিটি কোড গুলা সেন্ড করার জন্যে যেসব ফ্রেন্ড সিলেক্ট করতে বলেছে ফেইসবুক।
আপনি আপনার ফেইক আইডি গুলো সিলেক্ট করুন।
তারপর এই পেইজটি দেখতে পাবেন
এখানে কনফারমেশন কোড গুলো বসিয়ে নিন :)
এবং চেঞ্জ করে ফেলুন ভিকটিমের পাসওয়ার্ড।
- কিভাবে নিজের আইডি কে হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচাবেন
১.মেইল আইডি হাইড করে রাখুন যাতে আপনি ছাডা আর কেও মেইল আইডি দেখতে না পারে (ফেইসবুক মেইল)
২.সিকুউরিটি প্রশ্নের উওর দেওয়ার সময় ভালো ভাবে চিন্তা করে দিন যাতে যাতে কেও আপনার সিকুউরিটি প্রশ্নের উত্তর না যেনে যায়।
আগামী পোস্টে আরো কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়ার কারণে একটি পোস্টে সকল পদ্ধতি সম্পর্কে লেখা সম্ভব হলো না
বলে দুঃখিত।
কষ্ট করে পডার জন্যে ধন্যবাদ।
মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৯
সত্য ঘটনা অবলম্বনে উত্তর আলীনগরে প্রসিদ্ধ ইমাম ও মুসল্লী (মেরান আহমেদ)
একদা উত্তর আলীনগরের বায়তুল মামুর জামে মসজিদে একজন বয়ো-জ্যেষ্ঠ আলীমকে নিয়োগ দেওয়া হয় যার নাম মৌওলানা আব্দুল লতিফ ,গ্রামের নাম দাওয়াদারী, কানাইঘাট । তিনি উত্তর আলীনগর মহল্লার মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করতেন । নামায ও কোরআন তালীমের পিছনেই জীবনের সময় ব্যয় করেছিলেন তিনি । মামা শ্বশুর জনাব আকবর আলীর কাছ থেকে কর্ণগোচর বায়তুল মামুর জামে মসজিদটি জনাব মৌওলানা আব্দুল লতিফের হস্তে সুচনা ।
একদিন তিনি অনুভব করলেন, দিনদিন ধর্মনিষ্ঠের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । বিষয়টি তাঁকে পেরেশান করছিল । মুসল্লিদেরকে তিনি নিজের সন্তানের মত ভালোবাসতেন । যে ধর্মের সাহায্যে মানুষ তার চারপাশের জগৎ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত সেই পরাক্রমশালীর নাম নিতে অমনোনিবেশ সিদ্ধান্ত নিলেন নামাজ শেষে মুসল্লীদের বলবেন,আফসোস সেইদিন ছিলেন মুসল্লী একজন যার নাম সফাতউল্লাহ, যিনি রমজানের পিতা বলে বহুল পরিচিত ।
সফাত আলীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, লোকজন রং-তামাশা ও উন্মাদনায় ব্যস্ত । নাজীম, আত্মা কিংবা মিলু সাহেবের দোকানে টিভি দেখছে । ইমাম সাহেব বললেন,তা আবার কোন জিনিস? মুসল্লী জনাব সফাতউল্লাহ বললেন,কেহ বিশ্বকাপ খেলা দেখছে আবার কেহ নিত্য ধারাবাহিক ছবি । লোকজন দূরদর্শন অথ্যাৎ টিভির সামনে তৃষ্ণকাতর দৃষ্টিতে সেই খেলা কিংবা ছবি দেখে,তালি বাজায় এবং ভূয়সী প্রশংসা করে । বুযুর্গ ইমাম বললেন,নাউযুবিল্লাহ!আচ্ছা তারা খেলা দেখবে ভালো কথা,তাই বলে নামাজ ছেড়ে ।
বৃদ্ধ ইমাম অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ন হয়ে বলেন এ-তো মারাত্মক ঘৃণ্য পরিস্থিতি । আমাদের কর্তব্য এসব লোকদের হেকমতের সাথে নসীহত করা এবং সিরাতে মুস্তাকীমে তোলার জন্য চেষ্টা করা । ইমামের কথা শুনে মুসল্লী সফাতউল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি সেখানে গিয়ে লোকজনকে নসীহত করবেন ? বৃদ্ধ ইমাম হ্যাঁ করবো বলে উঠে দাঁড়ালেন । তারপর বললেন জনাব আপনি চলেন আমার সাথে , মুসল্লী তাঁর সিদ্ধান্তে দ্বি-মত পোষণ করলেন না , রওয়ানা হলেন তার সাথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে,দোকানের মালিকরা দুর থেকেই তাদের দেখে ফেললেন । তারা ভাবছে হয়তো ইমাম সাহেব কোন ওয়াজ-মাহফিলে যাবেন । কিন্তু না সোজা তাদের কাছে এসে উপস্থিত হলেন । দোকানের মালিকরা সবাই ছিলো পরহেজগার । প্রত্যেকের ক্যাশ-বাক্সের পেছনে জায়নামাজ রয়েছে,তারা সময়মত নামাজ আদায় করে পুনরায় ব্যবসায় মনোযোগি হোন । সেখানে দর্শকরা ইমামকে দেখে হতভম্ব । ইমাম সাহেবকে দেখে দোকান মালিক একটি চেয়ার দিলে ইমাম উপবিষ্ট হোন । তিনি বিসমিল্লাহ পড়লেন । আল্লাহ তাআলার হামদ-সানা বয়ান করলেন । দর্শকরা সব হাক্কাবাক্কা হয়ে গেল । একজন আরেক জনের দিকে দেখতে লাগলো তারা । কেউ কেউ হাসি-মজাক শুরু করে দিল আবার কেউ মনোযোগ সহকারে শুনছে । তিনি খোদারভীতির এমনসব আয়াত তেলাওয়াত করতে লাগলেন ,যেগুলো পাহাড়ে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে । এরপর তিনি মানবতার সর্বশেষ্ট কল্যাণকামী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু হাদীস উল্লেখ করলেন । ইমান ও আমলে সালে’র বরকত ও প্রতিদান তুলে ধরলেন । নেককারদের উচ্চ মর্যাদার বিবরণ দিলেন আল্লাহর না-ফরমান,শয়তান ও বদকারদের ভয়ানক পরিণতির কথা তুলে ধরলেন । আরও বললেন বন্ধুরা দিলের ভিতরে পরিবর্তন সৃষ্টি করো,তওবা করো,গুনাহ হতে পলায়ন করো ।মৌসুম যেমন বদলায় , ঠিক তেমনি বদলে যাও । আমাদের রব,মহানুভব,উদার ও অত্যান্ত দয়ালু । এই বলে ইমাম সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলেন মসজিদের দিকে,তাঁর পিছনে পিছনে বের হলো দোকানের সকল দর্শকরা । মাগরিবের নামাজ শেষে হুজুরের কাছে সবাই অনুতপ্ত হয় এবং সালাতে মনোযোগী হবে বলে প্রতিজ্ঞা করে । ইমাম সাহেব তাদের সংকল্পের অভিপ্রায় সন্তোষ হোন এবং ধর্ম প্রচারের দ্বায়িত্ব অর্পণ করেন মুসল্লী সফাত-উল্লাহর উপর,কিন্তু গ্রহণ করতে নারাজ তার একমাত্র কারণ তিনি কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না। ইমাম সাহেব বললেন তুমি যেভাবে পারো তা-ই যথেষ্ট। কিছুদিন পর ইমাম সাহেব দ্বায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেলে,নামাজিদের অবস্থা সেই সাবেক, সালাতে অমনোযোগী। মুসল্লী সফাত উল্লাহ তাদের সালাতে মনোনিবেশের তাগিদ দিলে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করতে শুরু করে। গ্রামের দুইজন প্রসিদ্ধ মুরব্বিও তাদের সাথে যুক্ত হয়। তাদের বচন-ভঙ্গি ছিলো সীমারের তলোয়ারের চেয়েও ধারালো।
একজন বলে তুমি নিজের পরিবার ঠিক করতে পারো না এখানে এসে সম্ভাষণের গান প্রচার করছো।
আরেকজন ওরা হিন্দু না খ্রিস্টান যে তাদেরকে ধর্মের দাওয়াত দিতে হবে।
প্রথম জনের জবাবে সফাতউল্লাহ বলেন, আপনি হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানের অপরাধ সম্পর্কে কি অবগত নন? তাই বলে কি তিনি ধর্মপ্রচার ছেড়ে দিছেন?
দ্বিতীয় জনের জবাবে যারা নামাজে অমনোযোগী তাদেরকে তাগাদ দেওয়া কি অপরাধ। নবী করীম(সাঃ) বলেছেন নামাজের তাগিদ দিতে।
শুনেছি ইমাম ও মুসল্লী সফাতউল্লাহ আর জীবিত নেই। আল্লাহ যেনো তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নছিব করেন।
কিছুদিন আগে আমি ছুটিতে যাই,মসজিদ ভর্তি মুসল্লী দেখে হৃদয় আনন্দে আন্দোলিত হয়েছে। তখন ইমাম ও বৃদ্ধ মুসল্লীর কথা মনে পড়লো তাই আমার এই ক্ষুদ্র লিখন তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম। সম্মানিত পাঠক,শিক্ষার দিক দিয়ে ক্ষুদ্রভাবে আছি, ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
লেখকঃ- মেরান আহমেদ (সৌদি আরব প্রবাসী)
পিতাঃ- আরমান আলী
মাতাঃ- সুফিয়া বেগম
গ্রামঃ- আলীনগর
থানাঃ- বিয়ানীবাজার
জেলাঃ- সিলেট
বাংলাদেশ
শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৮
Happy Anniversary
Happy Anniversary
Sorry for late wish dearest brother and vabi....
Sending all my love and best wishes as you celebrate another year of love and affection for one another. May you love continue to hold strong and grow with the passing of the ages. Happy Anniversary!
Enjoy every moment of your life. happy wedding anniversary stay forever... my dear Guardian.
I always pray to Allah that He will be with u every time. I want to wish u lots of happiness and joy
বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৮
মেরান বাদশা
========
সম্মানিত পাঠক,মেরান বাদশা রঙ্গো করছেন, ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
সিলেট, বাংলাদেশের একটি প্রাচীন জেলা । আলীনগর, সিলেটের একটি প্রসিদ্ধ শহর। সেই আলীনগর শহরের, উত্তর প্রদেশে এক শিশুর জন্ম হয়। সাধারণ শিশু তিনি নন। অনেক গুণের অধিকারী হন এই শিশু। সুন্দর দুটো চোখ। চমৎকার দেহের গড়ন দেখতে অনেকটা নিগ্রোদের মত, শান্ত ও ধীর স্থির। যে শিশুর জন্মে তোয়েল নগর ধন্য,তোয়েল নগর সম্পর্কে পরে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে । এই অসামান্য শিশু পরে সৌদি আরব সহ সারা তোয়েলনগর জোড়ে মেরান বাদশা নামে পরিচিত হন। তিনি জ্ঞান সাধনার দ্বারা তার প্রজাদের জন্য অনেক জ্ঞান গর্ব পুস্তক লিখেছেন। বাদশার পুরো নাম মেরান বিন আরমান । পিতার নাম আরমান বিন হাসমত । পিতা হযরত হাসমত -এর বংশধর। তাঁর মাতা ছিলেন মৌওলানা হযরত হাসমত আলী -র বংশধর। পিতা ও মাতার দিক দিয়ে তিনি মস্ত বড়ো বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মেধা ও চারিত্রিক গুণাবলী দিয়ে তিনি বংশের সুনাম বজায় রেখেছিলেন। মেরান বাদশার পরিবারে ছিল অর্থের প্রাচুর্য। ভোগ-সামগ্রী সব ছিল তার হাতের মুঠোয়। তার দোকান ছিল সাগরতুল্য; তাতে স্বর্ণ-রূপার স্তুপ ছিল। তার বাড়ি ছিল স্বর্গ-তুল্য; নহর সমূহ প্রবাহিত হত যার তলদেশ দিয়ে। ডাগর নয়না ৫০টি হুর দিয়ে যা শোভিত । কিন্তু এত কিছুর মাঝেও মেরান বাদশা জীবনের স্বাদ ও সজীবতা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। হৃদয়ের তৃপ্তি ও পরিতৃপ্তিতো স্বপ্নমাত্র, এরই মধ্যে একদিন বাদশা তার চাচার প্রাসাদ পশ্চিম প্রদেশে বেড়াতে গেলে হাতে করে নিলেন তিন প্যাকেট পাউন্টের বিস্কুট , তা চাচীমার হাতে তুলে দেওয়ার সময়, দেখতে পেলেন এক অসম্ভব সুন্দরীকে । যে কল্পনার তুলিতে আঁকা সুন্দরের চেয়ে ও অধিক সুন্দর ও মধুর ছিল। টানা টানা নীলাভ চোখ দুটোতে ছিল তার মায়াভী আকর্ষণ। চেহারায় ছিল তার শিশির ভেজা পাহাড়ী পদ্মফূলের স্নিগ্ধতা ও পবিত্রতা।
একপলক দেখেই মেরান বাদশা তার প্রেমের জালে আটকে পড়েন । এত দিনে বাদশার যৌবন সাগরে উথলা টেউ উঠল। তৃপ্তির আনন্দে প্লাবিত হলো তার হৃদয়। সেই সুন্দরী আর কেউ নয় মেরান বাদশার চাচাত বোন রূপবান । বাদশার হৃদমহল সর্বক্ষণ তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে। তার ভালোবাসার অথৈ সাগরে ডুবে থাকে। কিছু সময়ের জন্য বাদশা রাজ্যে যান এতেও তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ভালোবাসার অনিরুদ্ধ টানে আবার দ্রুত ফিরে আসে প্রিয়তমার আঙ্গিনায়।
==========================================
সম্মানিত পাঠক বাকি টুকু পরবর্তী পোষ্টে পাঠ করার অনুরোধ রইলো।
মেরান বাদশার গল্প – পাঠ (২)
- সম্মানিত পাঠক , শিক্ষার দিক দিয়ে ক্ষুদ্রভাবে আছি , ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
বাদশা যখন আঙ্গিনায় ঘোরাঘুরি করছিলেন, হঠ্যাৎ তার ছোট বোনের কথা মনে পড়লো। সম্মানিত পাঠক আরেকটি কথা না বললে নয় , বাদশা অনেক ক্ষমতাধর হয়েও বাদশা হিসেবে ছিলেন ভীষণ দয়ালু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালবাসা। প্রজাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা নিয়েই তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন। ফলে সেই রাজ্যের মানুষেরা ছিল খুব সুখি। কোনো কিছুর অভাব ছিল না তাদের। তারাও তাদের বাদশাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এত কিছু হলে কী হবে! এত শক্তি যে বাদশার, এত সম্পদে পরিপূর্ণ যার ভান্ডার, এত বিশাল আরমহৎ যারমন, সেই মনের গভীর কোণে ছিল এক নিদারুণ বেদনা। দারুণ অসুখি ছিলেন সেই বাদশা । সব থেকেও তার যেন কিছুই নেই। তিনি যেন ভীষণ একা। সারাদিন আনমনা হয়ে থাকেন। কারণ বাদশার একটি বোন, খুব অসুস্থ। সে দাঁড়াতে পারে না, বসতে পারে না। কথাও বলতে পারে না। দিন রাত কেবলই তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়,ভীষণ কষ্ট তার। সবার মতো সে চলাফেরা করতে পারেনা, মনের কথা বলার কোনো ভাষাও নেই তার। ক্ষুধা পেলেও কাউকে জানাতে পারেনা। জীবিত থেকেও সে যেনো মৃত। সবার মাঝে থেকেও সে যেন সবার থেকে দূরে। দিন যায়, মাস যায়। ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটা বছরও চলে যায়। রাজ্যের সব বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম-বৈদ্যদের পালা শেষ। দূর-দূরান্তের রাজ্য থেকেও বড় বড় ডাক্তারদের পক্সিখরাজ ঘোড়ায় করে নিয়ে আসা হল। কিন্তু কিছুতেই কিছুহল না। সকলেরই এক কথা। এ অসুখ কিছুতেই সারবার নয়।
একদিন ফুরছত পেয়ে মৃত্যুর দূত এসে হাজির, বুঝতেই পারছেন, দেহ রেখে, ১৯৯৬ সালে অনন্তের পথে যাত্রা করে ছোট্ট বোনটি। শেষে বাদশা আর কী করেন! মনের দুঃখে যেন সব কিছুই ভুলে গেলেন। ভুলে গেলেন তার প্রাণ প্রিয় দেশের কথা, প্রজাদের কথা, এমনকি ভুলে গেলেন আহার-নিদ্রার কথাও। তারপর একদিন রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন রাজপ্রাসাদ থেকে। সবাই যখন গভীর ঘুমে অচেতন, তখন পোশাক পাল্টে চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে। দিন যায়, মাস যায়, কেউ আর বাদশার কোনো সন্ধান পায় না।বাদশা বোনের বিরহে নিজ থেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন।সৌদি আরব এসে ঘুরতে ঘুরতে মাসখানেক পরে বাদশা ভাগ্যক্রমে সাক্ষাৎ পেলেন সৌদি আরবের বাদশা সউদ বিন আব্দুল মহসিন বিন আব্দুল আজিজের ,পরে এখানেই বসতি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। একদিন বাদশা ঘুরতে ঘুরতে ডুকে পড়েন পাহাড়ের এক জঙ্গলে, সে কী ভয়ংকর জঙ্গল! বাঘ, ভাল্লুক আর নানা বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ সেই জঙ্গল।কিছু নেকড়ে আক্রমণ করলে বাদশা খোদার নামে তা প্রতিহত করেন।জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসলেন। এদিকে বাদশার ভীষণ ক্ষুধা পেয়েগেল। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে থাকেন এদিকে সেদিকে। কিন্তু আসেপাশে এত গাছপালা, একটি গাছেও কোনো ফল নেই। অনাহারে-তৃষ্ণায় বাদশার প্রাণ যায় যায়। শেষে ক্লান্ত হয়ে এক গাছের নিচে বসে পড়লেন। ঠিক সেই সময় গাছের পাশ দিয়ে সাফা কোম্পানির পানির কাটুন কাঁধে করে যাচ্ছিল এক ছোট্ট মেয়ে। কী সুন্দর মিষ্টি দেখতে ! ছোট্ট ফুটফুটে গোলাকার মুখে দুটি বড় বড় চোখ। আর সেই চোখে যেন রাজ্যের কৌতূহল। বাদশা তো ভীষণ অবাক। কী আজব ব্যাপার! এত সুন্দর ছোট্ট মেয়ে এলো কোথা থেকে?বাদশা মেয়েটিকে ডাকলেন।মেয়েটি ছিলো সৌদি বাদশার তত্ত্বাবধায়কের মেয়ে। তাহাকে দেখে বাদশার বোনের কথা স্বরণ হলো,আবারও বিরহের দহে আক্রান্ত বাদশা।
==========================================
সম্মানিত পাঠক বাকি টুকু পরবর্তী পোষ্টে পাঠ করার অনুরোধ রইলো।










