মেরান বাদশার গল্প – পাঠ (২) ===============================
বাদশা যখন আঙ্গিনায় ঘোরাঘুরি করছিলেন, হঠ্যাৎ তার ছোট বোনের কথা মনে পড়লো। সম্মানিত পাঠক আরেকটি কথা না বললে নয় , বাদশা অনেক ক্ষমতাধর হয়েও বাদশা হিসেবে ছিলেন ভীষণ দয়ালু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালবাসা। প্রজাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা নিয়েই তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন। ফলে সেই রাজ্যের মানুষেরা ছিল খুব সুখি। কোনো কিছুর অভাব ছিল না তাদের। তারাও তাদের বাদশাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এত কিছু হলে কী হবে! এত শক্তি যে বাদশার, এত সম্পদে পরিপূর্ণ যার ভান্ডার, এত বিশাল আরমহৎ যারমন, সেই মনের গভীর কোণে ছিল এক নিদারুণ বেদনা। দারুণ অসুখি ছিলেন সেই বাদশা । সব থেকেও তার যেন কিছুই নেই। তিনি যেন ভীষণ একা। সারাদিন আনমনা হয়ে থাকেন। কারণ বাদশার একটি বোন, খুব অসুস্থ। সে দাঁড়াতে পারে না, বসতে পারে না। কথাও বলতে পারে না। দিন রাত কেবলই তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়,ভীষণ কষ্ট তার। সবার মতো সে চলাফেরা করতে পারেনা, মনের কথা বলার কোনো ভাষাও নেই তার। ক্ষুধা পেলেও কাউকে জানাতে পারেনা। জীবিত থেকেও সে যেনো মৃত। সবার মাঝে থেকেও সে যেন সবার থেকে দূরে। দিন যায়, মাস যায়। ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটা বছরও চলে যায়। রাজ্যের সব বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম-বৈদ্যদের পালা শেষ। দূর-দূরান্তের রাজ্য থেকেও বড় বড় ডাক্তারদের পক্সিখরাজ ঘোড়ায় করে নিয়ে আসা হল। কিন্তু কিছুতেই কিছুহল না। সকলেরই এক কথা। এ অসুখ কিছুতেই সারবার নয়।
একদিন ফুরছত পেয়ে মৃত্যুর দূত এসে হাজির, বুঝতেই পারছেন, দেহ রেখে, ১৯৯৬ সালে অনন্তের পথে যাত্রা করে ছোট্ট বোনটি। শেষে বাদশা আর কী করেন! মনের দুঃখে যেন সব কিছুই ভুলে গেলেন। ভুলে গেলেন তার প্রাণ প্রিয় দেশের কথা, প্রজাদের কথা, এমনকি ভুলে গেলেন আহার-নিদ্রার কথাও। তারপর একদিন রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন রাজপ্রাসাদ থেকে। সবাই যখন গভীর ঘুমে অচেতন, তখন পোশাক পাল্টে চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে। দিন যায়, মাস যায়, কেউ আর বাদশার কোনো সন্ধান পায় না।বাদশা বোনের বিরহে নিজ থেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন।সৌদি আরব এসে ঘুরতে ঘুরতে মাসখানেক পরে বাদশা ভাগ্যক্রমে সাক্ষাৎ পেলেন সৌদি আরবের বাদশা সউদ বিন আব্দুল মহসিন বিন আব্দুল আজিজের ,পরে এখানেই বসতি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। একদিন বাদশা ঘুরতে ঘুরতে ডুকে পড়েন পাহাড়ের এক জঙ্গলে, সে কী ভয়ংকর জঙ্গল! বাঘ, ভাল্লুক আর নানা বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ সেই জঙ্গল।কিছু নেকড়ে আক্রমণ করলে বাদশা খোদার নামে তা প্রতিহত করেন।জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসলেন। এদিকে বাদশার ভীষণ ক্ষুধা পেয়েগেল। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে থাকেন এদিকে সেদিকে। কিন্তু আসেপাশে এত গাছপালা, একটি গাছেও কোনো ফল নেই। অনাহারে-তৃষ্ণায় বাদশার প্রাণ যায় যায়। শেষে ক্লান্ত হয়ে এক গাছের নিচে বসে পড়লেন। ঠিক সেই সময় গাছের পাশ দিয়ে সাফা কোম্পানির পানির কাটুন কাঁধে করে যাচ্ছিল এক ছোট্ট মেয়ে। কী সুন্দর মিষ্টি দেখতে ! ছোট্ট ফুটফুটে গোলাকার মুখে দুটি বড় বড় চোখ। আর সেই চোখে যেন রাজ্যের কৌতূহল। বাদশা তো ভীষণ অবাক। কী আজব ব্যাপার! এত সুন্দর ছোট্ট মেয়ে এলো কোথা থেকে?বাদশা মেয়েটিকে ডাকলেন।মেয়েটি ছিলো সৌদি বাদশার তত্ত্বাবধায়কের মেয়ে। তাহাকে দেখে বাদশার বোনের কথা স্বরণ হলো,আবারও বিরহের দহে আক্রান্ত বাদশা।
==========================================
সম্মানিত পাঠক বাকি টুকু পরবর্তী পোষ্টে পাঠ করার অনুরোধ রইলো।
- সম্মানিত পাঠক , শিক্ষার দিক দিয়ে ক্ষুদ্রভাবে আছি , ত্রুটিতে মার্জনা করবেন।
বাদশা যখন আঙ্গিনায় ঘোরাঘুরি করছিলেন, হঠ্যাৎ তার ছোট বোনের কথা মনে পড়লো। সম্মানিত পাঠক আরেকটি কথা না বললে নয় , বাদশা অনেক ক্ষমতাধর হয়েও বাদশা হিসেবে ছিলেন ভীষণ দয়ালু। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালবাসা। প্রজাদের সুখ-দুঃখ আনন্দ-বেদনা নিয়েই তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন। ফলে সেই রাজ্যের মানুষেরা ছিল খুব সুখি। কোনো কিছুর অভাব ছিল না তাদের। তারাও তাদের বাদশাকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। এত কিছু হলে কী হবে! এত শক্তি যে বাদশার, এত সম্পদে পরিপূর্ণ যার ভান্ডার, এত বিশাল আরমহৎ যারমন, সেই মনের গভীর কোণে ছিল এক নিদারুণ বেদনা। দারুণ অসুখি ছিলেন সেই বাদশা । সব থেকেও তার যেন কিছুই নেই। তিনি যেন ভীষণ একা। সারাদিন আনমনা হয়ে থাকেন। কারণ বাদশার একটি বোন, খুব অসুস্থ। সে দাঁড়াতে পারে না, বসতে পারে না। কথাও বলতে পারে না। দিন রাত কেবলই তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়,ভীষণ কষ্ট তার। সবার মতো সে চলাফেরা করতে পারেনা, মনের কথা বলার কোনো ভাষাও নেই তার। ক্ষুধা পেলেও কাউকে জানাতে পারেনা। জীবিত থেকেও সে যেনো মৃত। সবার মাঝে থেকেও সে যেন সবার থেকে দূরে। দিন যায়, মাস যায়। ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটা বছরও চলে যায়। রাজ্যের সব বড় বড় ডাক্তার, কবিরাজ, হেকিম-বৈদ্যদের পালা শেষ। দূর-দূরান্তের রাজ্য থেকেও বড় বড় ডাক্তারদের পক্সিখরাজ ঘোড়ায় করে নিয়ে আসা হল। কিন্তু কিছুতেই কিছুহল না। সকলেরই এক কথা। এ অসুখ কিছুতেই সারবার নয়।
একদিন ফুরছত পেয়ে মৃত্যুর দূত এসে হাজির, বুঝতেই পারছেন, দেহ রেখে, ১৯৯৬ সালে অনন্তের পথে যাত্রা করে ছোট্ট বোনটি। শেষে বাদশা আর কী করেন! মনের দুঃখে যেন সব কিছুই ভুলে গেলেন। ভুলে গেলেন তার প্রাণ প্রিয় দেশের কথা, প্রজাদের কথা, এমনকি ভুলে গেলেন আহার-নিদ্রার কথাও। তারপর একদিন রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন রাজপ্রাসাদ থেকে। সবাই যখন গভীর ঘুমে অচেতন, তখন পোশাক পাল্টে চলে গেলেন রাজ্য ছেড়ে। দিন যায়, মাস যায়, কেউ আর বাদশার কোনো সন্ধান পায় না।বাদশা বোনের বিরহে নিজ থেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিলেন।সৌদি আরব এসে ঘুরতে ঘুরতে মাসখানেক পরে বাদশা ভাগ্যক্রমে সাক্ষাৎ পেলেন সৌদি আরবের বাদশা সউদ বিন আব্দুল মহসিন বিন আব্দুল আজিজের ,পরে এখানেই বসতি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। একদিন বাদশা ঘুরতে ঘুরতে ডুকে পড়েন পাহাড়ের এক জঙ্গলে, সে কী ভয়ংকর জঙ্গল! বাঘ, ভাল্লুক আর নানা বিষাক্ত সাপে পরিপূর্ণ সেই জঙ্গল।কিছু নেকড়ে আক্রমণ করলে বাদশা খোদার নামে তা প্রতিহত করেন।জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসলেন। এদিকে বাদশার ভীষণ ক্ষুধা পেয়েগেল। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে থাকেন এদিকে সেদিকে। কিন্তু আসেপাশে এত গাছপালা, একটি গাছেও কোনো ফল নেই। অনাহারে-তৃষ্ণায় বাদশার প্রাণ যায় যায়। শেষে ক্লান্ত হয়ে এক গাছের নিচে বসে পড়লেন। ঠিক সেই সময় গাছের পাশ দিয়ে সাফা কোম্পানির পানির কাটুন কাঁধে করে যাচ্ছিল এক ছোট্ট মেয়ে। কী সুন্দর মিষ্টি দেখতে ! ছোট্ট ফুটফুটে গোলাকার মুখে দুটি বড় বড় চোখ। আর সেই চোখে যেন রাজ্যের কৌতূহল। বাদশা তো ভীষণ অবাক। কী আজব ব্যাপার! এত সুন্দর ছোট্ট মেয়ে এলো কোথা থেকে?বাদশা মেয়েটিকে ডাকলেন।মেয়েটি ছিলো সৌদি বাদশার তত্ত্বাবধায়কের মেয়ে। তাহাকে দেখে বাদশার বোনের কথা স্বরণ হলো,আবারও বিরহের দহে আক্রান্ত বাদশা।
==========================================
সম্মানিত পাঠক বাকি টুকু পরবর্তী পোষ্টে পাঠ করার অনুরোধ রইলো।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন